Table of Contents
পূর্বের অংশের পর থেকে আলোচনাটি অব্যাহত…
সত্যতা বিচারের মাপকাঠি কী?
বুঝলাম ভাইয়া, ইসলাম সত্যধর্ম। কিন্তু ইসলামই যে চূড়ান্ত সত্যধর্ম সেটা বুঝবো কী করে? অর্থাৎ এটি একটি অতীন্দ্রিয় বিষয়। এমতাবস্থায় এখানে উনার সেই প্রশ্নটি চলে আসবে যে, “সত্যতা বিচারের মাপকাঠি কী” বা “তা চেনার উপায় কী?”
মুশির লক্ষ্য করলো, ইহতিজাজের প্রতি আওহামের মধ্যে এক ধরনের শ্রদ্ধাবোধ এসেছে। প্রথমে এসে হুজুর দেখে যে “ইগনোরি” মনোভাব এসেছিল, এখন আর সেটা নেই।
ইহতিজাজ বললো, আচ্ছা আওহাম দা, আপনি তো সাইন্সের স্টুডেন্ট, তাই না?
: জি।
: তাহলে বলুন, পানি কিভাবে সৃষ্টি হয়?
মুশির আওহামের প্রশ্ন আর ইহতিজাজের কথার মধ্যে কোনো যোগসূত্র খুঁজে পেলো না। তবুও সে নীরব শ্রোতার ন্যায় শুনে যেতে থাকলো। কারণ সে বুঝতে পারছে, ইহতিজাজের এমন প্রশ্নে নিশ্চয়ই কোনো রহস্য আছে।
: আওহাম বললো, কেনো! হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন গ্যাস একটি বিশেষ অনুপাতে ও বিশেষ পদ্ধতিতে মিলিত হয়ে পানি উৎপন্ন করে।
: রাইট, এবং ধন্যবাদ সংক্ষেপে সঠিক উত্তরটি প্রদানের জন্য! তবে এখন কথা হলো, পানি উৎপন্ন হওয়ার এ পদ্ধতি সম্পর্কে আপনার কাছে হয়তো প্রমাণিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই বলা যায়, পানি সম্পর্কে এ ধারণা আপনার অভিজ্ঞতালব্ধ। যেহেতু আপনি সাইন্স নিয়ে পড়ছেন। কিন্তু পানি যে এভাবেই উৎপন্ন হয়, এটা আমি মানবো কী করে? আমার তো এ ব্যাপারে কোনো অভিজ্ঞতা নেই।
: আওহাম বললো, বিজ্ঞানীদের দেওয়া সুপ্রমাণিত তত্ত্বের উপর আপনাকে বিশ্বাস করতে হবে।
: একজ্যাক্টলি। তারমানে, পানি যে এভাবেই উৎপন্ন হয়—এটা আমার বিশ্বাসলব্ধ জ্ঞান। তাহলে দেখা যাচ্ছে, একটা জড়বস্তুর সত্যতা প্রমাণের দুটি পদ্ধতি রয়েছে—একটি অভিজ্ঞতা, অন্যটি বিশ্বাস।
অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাস: জ্ঞান লাভের দুই পথ
কিন্তু আমি যদি পানি উৎপন্ন হওয়ার এ পদ্ধতির উপর বিশ্বাস না করি, তাহলে আপনি কী বলবেন? যেহেতু সেটা আমার কাছে প্রমাণিত নয়, সেহেতু আমি এটা বিশ্বাস নাও করতে পারি। এমতাবস্থায় আপনি আমাকে কী প্রস্তাব করবেন?
: আমি বলবো, আপনি বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্যের উপর বিশ্বাস করুন। আর যদি না করেন, তাহলে তাদের বাতলে দেওয়া পদ্ধতিতে পানির মধ্যে পরীক্ষা চালিয়ে দেখুন। তখন নিজেই বুঝতে পারবেন, পানি কিভাবে উৎপন্ন হয়।
: কেউ যদি এ উভয় পদ্ধতির মধ্য থেকে কোনোটিই গ্রহণ করতে না চায়। অর্থাৎ বিজ্ঞানীদের কথাও মানছে না, নিজে পরীক্ষা চালিয়ে তাদের কথার সত্যতা নিরূপণেও রাজি হচ্ছে না—তখন কী বলবেন? জিজ্ঞেস করলো ইহতিজাজ।
: এমন ব্যক্তিকে অজ্ঞ-মূর্খ, গোঁড়া আর জেদি ভাবা ছাড়া কী-ই বা করা যেতে পারে! আওহামের সোজাসাপ্টা উত্তর।
: এবার বুঝুন দাদা, সামান্য জড়পদার্থ সম্পর্কে সবাই সম্যক এবং সরাসরি বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে জ্ঞান অর্জন করতে, সে সম্পর্কে অবগত হতে, সক্ষম নয়। বরং সেগুলোর ব্যাপারে জ্ঞান লাভের দুটি উপায় রয়েছে—অভিজ্ঞতা আর বিশ্বাস। তাই, কেউ এক্ষেত্রে অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানের অধিকারী হবে। আর কাউকে অভিজ্ঞতাবাদীদের কথার ভিত্তিতে বিশ্বাস করতে হবে। যেখানে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জড়জগতের এই অবস্থা, সেখানে অতীন্দ্রিয় জগত থেকে আগত ধর্ম সম্পর্কে সরাসরি, সমানভাবে, সকলে অবগত হতে চাওয়ার মধ্যে কোনো যুক্তি রয়েছে কি? এরূপ দাবি মূলত মক্কার কাফিররা করতো। তারাও চাইতো জিবরাইল যেনো ওহী নিয়ে এসে সরাসরি তাদের সাক্ষাৎ দেন। অবিশ্বাসের এই দাবিটা নতুন কিছু নয়। যাইহোক, আমার প্রশ্ন হলো, এক্ষেত্রেও সত্যতা যাচাইয়ের উপায় হিসেবে অভিজ্ঞতা এবং বিশ্বাসকে উপযোগী করে তোলা যায় না?
বিজ্ঞান ও ধর্ম: যাচাইয়ের একই পদ্ধতি
বিজ্ঞানের বিষয়াদি সম্পর্কে যেমন বিজ্ঞান জগতের লোকেরা সরাসরি জানেন, অন্যদের কেবল তাতে বিশ্বাস রাখতে হয়; ঠিক সেভাবে ধর্মজগতে নবীদের রয়েছে অভিজ্ঞতা তথা সরাসরি জ্ঞান। পক্ষান্তরে আমাদের করতে হবে বিশ্বাস। যদি তা না করি, তবে আপনার কথা অনুযায়ী—বিজ্ঞানের বিষয়াদিকে যেভাবে বিজ্ঞানীদের বলে দেওয়া পদ্ধতিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে হবে—ঠিক সেভাবে নবীদের বলে দেওয়া পদ্ধতিতে ধর্মকেও যাচাই-বাছাই করে দেখতে হবে। কি, সত্য বলছি তো দাদা?
: এমনি তো মনে হচ্ছে।
দেখুন, বিজ্ঞানের বিষয়াদিকে বিজ্ঞানীদের বাতলানো পদ্ধতিতে যাচাই করে, এগুলোর সত্যতা প্রমাণিত করতে হয়। নতুবা এর উপর বিশ্বাস রাখতে হয়। তৃতীয় পথ অবলম্বন করে, কেউ যদি বিজ্ঞানীদের কথায় বিশ্বাস না করে অথবা তাদের বলে দেওয়া পদ্ধতিতে যাচাই না করে, তাদের আবিষ্কারকে অস্বীকার করে বসে—তাহলে ঐ ব্যক্তি যেরূপ মূর্খ-গোঁড়া, হঠকারি ইত্যাদি আখ্যা পায়; ঠিক সেভাবে যদি কেউ ধর্মের বেলায় এরূপ করে, তাহলে সে কী উপাধি পাওয়ার উপযুক্ত বলে আপনি মনে করেন, দাদা,,,,,?
অতএব ইসলামের সত্যতা যাচাইয়ের উপায় হলো নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বাতলে দেওয়া পথ ও পন্থা। এর মাধ্যমে যেকেউ ট্রাই করে দেখতে পারে, “সত্য কী”।
নবী (সা.)-এর বিশ্বস্ততা ও অতীন্দ্রিয় জ্ঞানের গ্রহণযোগ্যতা
আপনি বলছেন দাদা, ইসলাম ধর্ম অতীন্দ্রিয় জ্ঞান দ্বারা প্রমাণিত, তাই সেটা অনুধাবন করবো কিভাবে? আমি আপনার কাছে জানতে চাই। নিউটন, আইনস্টাইন, এডিসন, কার্ল মার্ক্স, রেনে দেকার্ত, ইমানুয়েল কান্ট—এদের কথাকে আপনি মিথ্যা-অহেতুক বলে উড়িয়ে দিবেন কি?
: অবশ্যই না।
: কেনো?
: কারণ, তারা সাত্ত্বিকভাবেই বিশ্বস্ত ব্যক্তি। তাদের কথার একটি মূল্য আছে।
: সুন্দর বলেছেন। আচ্ছা, তাদেরকে ছোটকাল থেকেই কেউ “আল-আমিন” বা “বিশ্বস্ত” বলে ডেকেছে? এমনটি আপনি শুনেছেন?
: না তো, এরূপ শুনিনি।
: দেখুন দাদা, যেখানে কেউ বড় হওয়ার পর বিশ্বস্ত হয়ে গেলে তাঁর কথাকে মিথ্যা কিংবা অগ্রহণযোগ্য বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, সেখানে ছোটকাল থেকে যদি কেউ “আল-আমিন” অভিধায় অভিহিত থাকে, তাহলে তার কথাকে আপনি কিভাবে, কোন যুক্তিতে অগ্রাহ্য করতে পারেন? আপনি জানেন, নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে মক্কার বর্বর কাফেররাও ছোটকাল থেকে “আল-আমিন” তথা “বিশ্বাসী” বলে ডাকতো!! এবার চিন্তা করুন, তিনি কত বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছিলেন! শুধু তাই নয়, তিনি নবী হওয়ার পরও মক্কার যেসব কাফের তাকে নবী বলে মেনে নেয়নি, তারাও তাকে পাগল, জাদুকর ইত্যাদি বলে বিমুখ থেকেছে। কিন্তু একজন কাফেরও তাকে “কাজ্জাব” বা মিথ্যুক বলেনি। কারণ তারা জানতো, মুহাম্মদ (সা.) মিথ্যা বলতে পারেন না। তবুও হঠকারিতাবশত তাদের অনেকে তাঁকে নবী বলে স্বীকার করেনি।
মক্কার কাফেরদের নেতা আবু জাহলকে (যার আসল নাম হলো “আমর ইবনে হিশাম”) মুনাফিকদের নেতা আখনাস ইবনে শারিক প্রশ্ন করেছিলো, “মুহাম্মদ যে কথা বলে, তা সত্য নাকি মিথ্যা”? এটা কুরআন নাযিল হওয়ার পরের ঘটনা। আবু জাহল চিন্তা করলো, যদি বলি মুহাম্মাদ মিথ্যুক, তাহলে প্রশ্ন আসবে—“দীর্ঘ চল্লিশ বৎসর তাঁকে ‘আল-আমিন’ বললে কেন”? আর যদি বলি, মুহাম্মাদ সত্য, তাহলে প্রশ্ন আসবে—“তাঁর কথা মেনে নিচ্ছো না কেনো”? এমন মহাসংকটে পড়ে আবু জাহল পাশ কাটিয়ে উত্তর দিলো—“যতদিন পর্যন্ত মুহাম্মাদ নিজে থেকে কথা বলেছিলেন, ততদিন পর্যন্ত সত্য ছিলেন। যেদিন থেকে তাঁর কাছে ওহী আসার কথা বলেন, সেদিন থেকে মিথ্যা হয়ে গেছেন”। অর্থাৎ আবু জাহল নবীজি (সা.)-কে মিথ্যুক সাব্যস্ত করতে পারেনি; করেছে আল্লাহর কালামকে যে, ওহী মিথ্যা। তাই আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাজিল করে বলে দিলেন, “হে রাসুল, মুশরিকদের যেসব কথায় আপনি আন্তরিকভাবে ব্যথিত হন, সেসব কথা আমি জানি। আপনার লক্ষ করার ব্যাপার হলো, মুশরিকরা আপনাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না; বরং আমার আয়াতকে মিথ্যা বলে।”
আরেকটি ঘটনা শুনুন, যখন মক্কার কাফেরদের অকথ্য নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মুসলিমরা প্রথমবারের মতো আবিসিনিয়ায় হিজরত করেন, তখন আবু সুফিয়ান গুটিকয়েক লোক নিয়ে তাদের ফিরিয়ে আনতে সে দেশের বাদশাহ নাজাশীর দরবারে গিয়ে উপস্থিত হন। বলাবাহুল্য যে, আবু সুফিয়ান তখনো মুসলিম ছিলেন না। বাদশাহ নাজাশী তাকে মুহাম্মাদ (সা.)-এর অবস্থা, আচার-ব্যবহার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে, তিনিও স্বীকার করতে বাধ্য হলেন—নবী মুহাম্মাদ সত্যনিষ্ঠ এবং ন্যায়ের মূর্তপ্রতীক। নবীজির গুণাবলিকে অস্বীকার করতে, অমুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তার বিবেকে বেধেছে। তাহলে কী বুঝলেন, দাদা! মক্কার কাফেররা নবীজিকে মিথ্যুক বলতো? কখনো না। বরং তারা কুরআনুল কারীম যে আল্লাহর বাণী, সেটা অস্বীকার করতো। মুহাম্মদ (সা.)-কে সত্য এবং ন্যায়বান বলতে কুণ্ঠাবোধ করতো না। সুতরাং এমন ব্যক্তির কথাকে কিভাবে, কোন যুক্তিতে অবাধে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখানো যেতে পারে?
আপনি জানেন দাদা, নিখিল ভারত থিওসফিক্যাল সোসাইটির নেত্রী বিখ্যাত ইংরেজ মহিলা অ্যানি বেসান্ত নবী মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন! তিনি বলেন, “শ্রেষ্ঠ নবীর (হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর) যে গুণটি আমার অন্তরে তাঁর প্রতি ভক্তির সঞ্চার করেছে, তা হলো তাঁর সেই অনন্য বিশেষণ, যা তাঁর স্বদেশবাসীকে তাকে ‘আল-আমিন’ (পরম বিশ্বস্ত) নামে অভিহিত করতে বাধ্য করেছিলো। মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সকলের কাছে এর চাইতে বেশি অনুসরণযোগ্য ব্যাপার আর কিছুই হতে পারে না। যার গোটা সত্তা সততা ও সত্যবাদিতার প্রতিমূর্তি, তিনি যে সর্বাধিক সম্ভ্রান্ত ও সম্মানিত—তাতে সন্দেহের অবকাশ কোথায়! সত্যের পয়গাম বাহক কেবল এমন ব্যক্তিই হতে পারেন।”
মহানবী (সা.)-এর বিচারব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করে অমুসলিম মনীষী বার্ক লিখেছেন, “ইসলামি আইন—মুকুটধারী সম্রাট হতে সামান্যতম প্রজা পর্যন্ত সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। এটা এমন এক আইন, যা জগতের সর্বোত্তম জ্ঞানানুমোদিত, পাণ্ডিত্যপূর্ণ এবং সর্বোৎকৃষ্ট আইনশাস্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”
জর্জ বার্নার্ড শ’ তাঁর বই “দ্য জেনুইন ইসলাম”-এর মধ্যে লিখেন, “আমি সবসময় মুহাম্মাদের ধর্মকে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছি—এর আশ্চর্য জীবনী শক্তির জন্য। এটিই একমাত্র ধর্ম, পরিবর্তনশীল দুনিয়ার সঙ্গে যার খাপ খাওয়ানোর ক্ষমতা আছে বলে আমার মনে হয়। সর্বযুগেই এ ধর্ম সমাদৃত হতে পারে। আমি এ বিস্ময়কর লোকটিকে বুঝতে চেষ্টা করেছি এবং আমার মতে, তিনি অ্যান্টি-ক্রাইস্ট তো ননই; বরং তাঁকে মানবজাতির ত্রাণকর্তা বলা উচিত। আমার বিশ্বাস, তাঁর মতো একজন মানুষ যদি বর্তমান বিশ্বের নায়ক হতেন, তাহলে তিনি এ সমস্যাগুলোর এমন সমাধান দিতে সক্ষম হতেন, যা পৃথিবীতে শান্তি ও সুখ এনে দিতো। মুহাম্মাদের ধর্মের ব্যাপারে আমি ভবিষ্যদ্বাণী করছি যে, এটি যেমন বর্তমান ইউরোপে গ্রহণযোগ্য হতে শুরু করেছে, তেমনি আগামী দিনের ইউরোপেও তা গ্রহণযোগ্য হবে।”
এমনিভাবে টমাস কার্লাইল, গুরুদত্ত সিং, পি. কে. হিট্টি, ক্যারেন আর্মস্ট্রং, এডওয়ার্ড গিবন, আলফ্রেড দ্য ল্যামার্টিন, গোস্তাভ উইল, ড. মার্কোস উড—সহ আরো অনেক অমুসলিম মনীষী নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সততা-সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মহানুভবতা এবং তাঁর দ্বীনের যথার্থতার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর কথাকে অগ্রাহ্য করে এড়িয়ে যেতে পারেননি। বাস্তবতা এবং বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞান তাদেরকে এড়িয়ে যেতে দেয়নি।
ভাবুন তো আওহাম দা, নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে অমুসলিমরাও সত্যের বাহক হিসেবে কেনো অভিহিত করতে গেল? যদি না তারা ভালোভাবে বুঝতে পারতো যে, সত্যিই তিনি এক মহামানব।
আপনি অতীন্দ্রিয় জ্ঞানের কথা বলছেন! কিন্তু আপনি লক্ষ করে কি দেখেছেন, পৃথিবীতে যত যুগান্তকারী আবিষ্কার ও সৃষ্টিকর্মের সূচনা হয়েছে, সেগুলোর মূলে অতীন্দ্রিয় অনুভূতির সরাসরি হস্তক্ষেপ রয়েছে? নিউটনের “মধ্যাকর্ষণ শক্তি”, এডিসনের “বৈদ্যুতিক শক্তি”, আইনস্টাইনের “আপেক্ষিক তত্ত্ব”—ইত্যাদির পিছনে অতীন্দ্রিয় অনুভূতি ও ইশারার সরাসরি হাত রয়েছে। হঠাৎ নিউটনের মনে হলো, “আপেল নিচের দিকে পড়ে কেনো?” নিউটন অবশ্যই তার জীবনে বহুবার বৃন্তচ্যুত আপেল দেখে থাকবেন। তখন তাঁর মনে এ ধরনের প্রশ্ন জাগেনি। কিন্তু কেনো? হঠাৎ এ প্রশ্ন কোন জগত থেকে তাঁর মনে উদয় হলো? “মধ্যাকর্ষণ শক্তি” কি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য? আইনস্টাইনের “আপেক্ষিক তত্ত্ব” কখনো দেখেছেন? মার্কসের “উদ্বৃত্ত মূল্যতত্ত্ব” কেউ কখনো ইন্দ্রিয় দিয়ে স্পর্শ করতে পেরেছে? পারেনি। তবুও তাদের মতবাদকে সম্মান জানানো হয়। বিশ্বাস করার প্রবণতা জাহির করা হয়। সুতরাং অতীন্দ্রিয় জ্ঞানের অধিকারী হওয়ায় ইসলামের নবী এবং তার মতাদর্শকে এড়িয়ে যাওয়া—অবজ্ঞা করা, আর নিউটন, এডিসন প্রমুখ অতীন্দ্রিয় তত্ত্বের আবিষ্কারককে স্বাপ্নিক বা বিলাসী গল্পকার আখ্যা দেওয়ার মধ্যে কোনো প্রভেদ নেই।
অতএব ইসলাম ধর্মকে অতীন্দ্রিয় বলে নাকচ করে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমাদের মধ্যে যে জ্ঞান রয়েছে, সেটাও তো অতীন্দ্রিয়। তাই বলে আমাদের জ্ঞানবানদের মধ্যে যে জ্ঞান রয়েছে, তা কি অস্তিত্বহীন? আসলে কি তাঁরা মূর্খ? সেই জ্ঞানের কি কোনো সত্যতা নেই? যদি এরূপ না হয়, তাহলে ইসলামের সত্যতার ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠবে কেনো?
অতএব, অতীন্দ্রিয় ওহী দ্বারা প্রতিষ্ঠিত পরম সত্য হলো—ইসলাম। যদি কেউ সেটা মানতে না চায়—তাহলে পূর্বের যুক্তি অনুযায়ী—ওই ব্যক্তির জন্য ইসলামের নবীর বাতলে দেওয়া পদ্ধতিতে, তাঁর আনীত ধর্মকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখে নেওয়া আবশ্যক।

Comments