Table of Contents
ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম ও মানবতার ধারণা
এখন আমাদের দেখতে হবে ওই ভারসাম্যপূর্ণ মধ্যমপন্থার রীতিনীতি কোন ধর্মে আছে। যে ধর্মে মানুষকে বল্গাহীন ছেড়ে দেওয়া হয়নি, আবার তার লাগামকে কঠোরভাবে টেনেও ধরা হয়নি—সেটাই হবে প্রকৃত ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। মানবতার ধর্ম। অর্থাৎ সে ধর্মেরই অপর নাম "মানবতা" হতে পারে। যেহেতু এ ধর্ম অনুসরণের মাধ্যমেই মানবতায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব।
স্রষ্টা প্রদত্ত ধর্মীয় নিয়মনীতি ছাড়া, আমাদের চেষ্টা দ্বারা পূর্ণাঙ্গ মানবতাবাদী হওয়া যে সম্ভব নয়; আশা করি, এতক্ষণকার আলোচনায় থেকে আপনি সেটা বুঝে নিয়েছেন। তাই আমরা যখন খুঁজলাম, সৃষ্টির শুরু লগ্ন থেকে মানুষের প্রকৃতিকে কন্ট্রোল করে ভারসাম্যপূর্ণ বিধান কোন ধর্ম নিয়ে এসেছে—তখন দেখতে পেলাম মহান স্রষ্টার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, "হে নবী আপনি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে এই ধর্মের উপর রাখুন। এটাই আল্লাহতালার (ফিতরাত) প্রকৃতি। যার উপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন নেই। এটাই যথার্থ ধর্ম। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তা জানে না।”
দেখুন দাদা, আমরা আলোচনা করে প্রমাণ করে এসেছি যে, মহাবিশ্বের স্রষ্টা আছেন এবং তিনি একজন। সেই সাথে এও দেখে এসেছি, মানুষকে প্রকৃতিস্থ করতে তাঁর পক্ষ থেকে ধর্ম আসার প্রয়োজন রয়েছে। যা মানুষকে ভাল-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, কল্যাণ-অকল্যাণ পরিচয় করিয়ে দিয়ে, মানুষকে মানবতাবাদ শিক্ষা দিবে। এখন আপনি দেখেন, এতসব ধর্মের মধ্যে কোনটিতে উপরে প্রমাণিত বিষয়গুলো পাওয়া যায়? একমাত্র ইসলাম ছাড়া আর কোথাও পাবেন না। ইসলাম ধর্ম এক আল্লাহতে বিশ্বাসী হতে শেখায়। সেইসাথে এও ঘোষণা দিয়েছে যে, এটিই স্রষ্টার ফিতরাত। যাকে মানুষের প্রকৃতিগত ধর্ম বানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর উপরই তিনি মানবজাতি সৃষ্টি করেছেন। এ ধর্মই মানুষের প্রকৃতিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে মানবতাবাদে দীক্ষিত করতে সক্ষম। এখানে সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে এটি হলো স্রষ্টার ফিতরাত তথা প্রকৃতি। আর স্রষ্টাপ্রদত্ত প্রকৃতি যে সৃষ্টিকে ভারসাম্য এনে দিতে পারবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। মানুষের মধ্যে যে জীবন, তা মূলত চিরঞ্জীব সেই সত্তা থেকে তাদের মধ্যে ফুঁকে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ স্রষ্টার সাথে এই সৃষ্টির এক অপূর্ব অশরীরী সংযোগ রয়েছে। তাই সেই স্রষ্টার প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত ধর্ম যদি তারা গ্রহণ করে নেয় তবেই তারা প্রকৃতিস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ হতে পারবে। আর স্রষ্টার প্রকৃতি থেকে আগত সেই ধর্মের নাম হলো ইসলাম। সুতরাং ইসলামই হচ্ছে সঠিক ধর্ম। মানবতার ধর্ম। এর বাহিরে যারা মানবতা-মানবতা করেন, আমি তাদের কাছে জানতে চাই—আপনারা কি বলবেন সেটা কোন জগতের, কোন জাতের মানবতা?
ধর্মের সার্বজনীনতা ও অন্যান্য ধর্ম
শুনুন দাদা, আমি আপনাকে আরো একটু বুঝিয়ে বলি ইসলাম কী করে মানবতার ধর্ম এবং সঠিক ধর্ম। এর আগে আপনি আমাকে বলুন। ধর্ম যেহেতু মানুষকে ভারসাম্য এবং মানবতা শিক্ষা দেবে, সেহেতু এটা সার্বজনীন হওয়া উচিত নয় কি? কারণ নারী-পুরুষ সবার জন্য তো মানবতায় উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক।
: হ্যাঁ, এমন ধর্ম সার্বজনীন হওয়া চাই। আওহামের সরল উত্তর।
কিন্তু আপনি জানেন কি দাদা, হিন্দুধর্ম সার্বজনীন নয়? জানেন দাদা, হিন্দু ধর্মে বেদ ও ধর্মীয় শাস্ত্রপাঠ হিন্দু নারীর জন্য নিষিদ্ধ? “হিন্দুশাস্ত্র মতে পুরুষের প্রভু বা উপাস্য হলেন ঈশ্বর। পক্ষান্তরে নারীর প্রভু ও উপাস্য হলেন তার স্বামী। তাদের উপাসনা হল স্বামীর সেবা করা।”
বর্তমান সময়ে দেখা যায় তাদের অনেক নারীরা পূজা-পার্বণে যাচ্ছে তবে সেটা ধর্মের বিধান হিসেবে নয়। যুগের কারণে তারা তাদের যেতে দিতে বাধ্য হচ্ছে। বেদ কিন্তু তাদের এই অনুমতি দেয়নি।
বলুন তো দাদা, নারীরা কি মানুষ নয়? এদের জন্য কি ধর্ম নেই? এরা কি মানবতার বাইরের প্রাণী? শুধুমাত্র স্বামীর সেবাদাসী হওয়ার জন্যই কি তাদের জন্ম? যে ধর্ম নারীর জন্য এমন অবমাননাকর বিধান প্রণয়ন করে, সে ধর্ম জগতে ভারসাম্য এবং মানবতা কোথা থেকে প্রতিষ্ঠা করবে? যে ধর্মে নারী অবজ্ঞার পাত্র, সে ধর্ম সার্বজনীন হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
এছাড়া, দীর্ঘকাল ধরে এই ধর্মের মধ্যে সতীদাহ প্রচলিত ছিলো এবং বিধবা বিবাহ নিষিদ্ধ ছিলো। ১৮২৯ সালে রাজা রামমোহন রায়ের সামাজিক আন্দোলনের প্রচেষ্টায়, বেঙ্গলের গভর্নর "লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক" সতীদাহ প্রথা বাতিল ঘোষণা করেন। এমনিভাবে ১৮৫৬ সালে "ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের" প্রচেষ্টায় বৃটিশ বড়লাট "লর্ড ডালহৌসি" আইন প্রণয়ন করে বিধবা বিবাহকে আইনি স্বীকৃতি দেন। যদি এই ধর্ম ঐশ্বরিক-অবিকৃত ও সার্বজনীন ধর্ম হতো, তাহলে মানবপ্রকৃতি বহির্ভূত এ ধরনের অমানবিক আইন থাকতো না। যে ধর্ম মানুষের তোপের মুখে পরিবর্তন হয়ে যায়, সকল যুগে সকলের তরে পরিব্যাপ্ত হয়ে থাকতে পারে না, সে ধর্ম আর যাইহোক—মানবপ্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সার্বজনীন ধর্ম হওয়ার প্রশ্নই আসে না।
অন্যান্য ধর্ম: অসঙ্গতি ও বিশ্লেষণ
তারপর বলুন দাদা, যদি কোনো ধর্ম পাপ থেকে, অন্যায়-অবিচার থেকে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে এগুলোর প্রতি আরো উদ্বুদ্ধ করে, তবে সেই 'ধর্ম' জগতে কখনো কি মানবতা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে?
: অবশ্যই না
: তাহলে ইহুদি-খ্রিস্টানদের সম্পর্কে আপনি কী বলবেন? "তাদের বিশ্বাস হলো আদম সন্তানের পাপ মোচন করতে স্রষ্টা নিজে মানুষ হয়ে যিশুখ্রিস্টের রূপ নিয়ে পৃথিবীতে এসে মানুষের হাতে মৃত্যুবরণ করেছেন"।
তারমানে কী দাঁড়ালো? যতই পাপ করো সমস্যা নেই। স্রষ্টা পূর্ব থেকেই প্রায়শ্চিত্ত করে দিয়েছেন। সেজন্যই তো ডব্লিউ বুশ, ওবামা, এবং ট্রাম্পের ন্যায় নরপিশাচরা পৃথিবী ব্যাপী যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা নিয়ে দর্পে বেড়ায়। বলুন তো, এমন ধর্ম কোনো মানবতাবাদী বা ভারসাম্যপূর্ণ (ইনসানিয়াতের) ধর্ম হতে পারে? এখানে ধর্মগুলোর অসংগতি এবং সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা হারানোর কারণ হিসেবে যা বললাম, তা কেবলমাত্র হিন্ট। এর বেশি কিছু নয়। এসব ধর্মের ভ্রান্তিগুলো তুলে ধরে যদি সেগুলোর বাতুলতা প্রমাণ করতে যাই, তাহলে পুরো একটি বই লেখার প্রয়োজন দেখা দিবে। এমন দীর্ঘ পরিসর যেহেতু এখানে নেই, তাই কেবল হিন্ট করে এগুলোর বাতুলতার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইলাম।
আপনাকে আরো একটি তথ্য দিই। ইহুদি এবং খ্রিস্টান উভয়েই হচ্ছে বাইবেলের অনুসারী। “কিন্তু বাইবেলের কোথাও আপনি একথা খুঁজে পাবেন না যে, মুসা নবীর অনুসারী এবং তাদের বংশধরদের স্রষ্টা ‘ইহুদি ধর্মিষ্ঠ’ কিংবা যিশুখ্রিস্টের অনুসারীদের ‘খ্রিস্টান ধর্মিষ্ঠ’ বলেছেন। ‘ইহুদি এবং খ্রিস্টধর্ম’ নামে কোনো ধর্ম স্রষ্টার পক্ষ থেকে আসেনি। এই নাম দু'টির কোনো ঐশ্বরিক অনুমোদন বা ওহীসূত্র নেই।”
তারমানে কি বুঝলেন, ইহুদি-খ্রিস্টান স্রষ্টার ফিতরাত তথা প্রকৃতিগত ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত? কখনো নয়। সুতরাং এগুলো মানুষের প্রকৃতিকে কী করে ভারসাম্যপূর্ণ এবং শান্তিময় করে গড়ে তুলবে? ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা আসলে, তবেই সমাজে শান্তি কায়েম হবে। বলা হয় "আল-ইসলামু বাইনাল ইফরাতি ওয়াত তাফরিত" অর্থাৎ ইসলাম হলো ভারসাম্যপূর্ণ ধর্ম। আর ইনসানিয়াতও (মানবতা) হচ্ছে ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ইসলামই হচ্ছে ইনসানিয়াত তথা মানবতা। অন্যকথায় মানবতা নিহিত রয়েছে একমাত্র ইসলামের মধ্যে। ভারসাম্যপূর্ণ এ জীবন-ব্যবস্থা সৃষ্টির শুরুলগ্ন থেকে স্রষ্টা জগতের মধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছেন বলেই, সৃষ্টির অস্তিত্ব বজায় রয়েছে। প্রত্যেক বস্তুর মধ্যে খুঁজলে তার প্রকৃতিতে "ইসলামের" সত্যতা ফুটে উঠবে। দেখুন দাদা, ইসলাম 'উড়ে এসে জুড়ে' বসা নতুন কোনো ধর্ম নয়। ইসলাম বলে না যে, সপ্তম শতকে আরব উপদ্বীপে নবী মুহাম্মদ সা. এই ধর্মের প্রবর্তন করেছিলেন। বরং ইসলাম বলে, পৃথিবীর প্রথম মানব ও নবী আদম আলাইহিস সালাম স্রষ্টার ফিতরাত (প্রকৃতিগত ধর্ম) ইসলাম নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন। কারণ স্রষ্টা বলে দিয়েছেন, "একমাত্র ইসলামই হচ্ছে তাঁর মনোনীত ফিতরাত তথা প্রকৃতিগত ধর্মীয় বিধান"।
পরবর্তীকালে অন্যান্য নবী ও এ ধর্মেরই প্রচার করেছেন এবং শেষ নবী মুহাম্মদ সা.-এর মাধ্যমে তার চূড়ান্ত সীমা নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে।
আপনি দুনিয়াতে বৌদ্ধ, জৈন, ফারসী ইত্যাদি যেসব ধর্ম দেখছেন, সেগুলোর অনুসারীদের বর্ণনা মতেই ওইগুলোর একটিও স্রষ্টার পক্ষ থেকে আসেনি। বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা তারই অনুসারীদের মতে "গৌতম বুদ্ধ" বা "সিদ্ধার্থ" নামক এক ব্যক্তির বিবেক।
এমনিভাবে জৈন ধর্মের প্রবর্তক হলেন 24 জন তীর্থঙ্কর। যারা সবাই মানুষ। জৈন ধর্মের উদ্ভব হয় ষষ্ঠ শতকে, বৌদ্ধ ধর্মের প্রায় সমসাময়িককালে -ব্রাহ্মণ্য ধর্মের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের আকারে।
তাহলে দেখা যাচ্ছে, জৈন ধর্মের উদ্ভবের পেছনে রয়েছে একদিকে ঝগড়া কলহ, অপরদিকে এর নেপথ্যে রয়েছে একজন মানুষের বিবেক।
পার্সি ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হলেন "জরথ্রুস্ট" নায়ক একজন মানুষ। এটাকে পার্সি ধর্ম বলা হয় কারণ, এর উৎপত্তি হয়েছে পার্সিয়াতে। এখন থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর পূর্বে।
তারমানে, ইসলাম ভিন্ন অন্যসব ধর্ম মানুষের বিবেক দ্বারা সৃষ্ট। এগুলোর কোনোটি আবার অন্য ধর্মের সাথে সংঘাতের ফলে অস্তিত্বে এসেছে। তারমানে মানুষ আপন স্বার্থ অনুযায়ী এসব ধর্ম বানিয়ে নিয়েছে। দেখেন তো দাদা, বলছিলাম না মানুষের বিবেক সত্যের মাপকাঠি হতে পারে না!! পেলেন তো ধর্মগুলোর প্রবর্তনে এর প্রমাণ? প্রত্যেকে যার-যার বিবেক অনুযায়ী একেক ধরনের ধর্মের প্রবর্তন করেছে। অপরদিকে এ বিবেকই হচ্ছে ভারসাম্যহীন বস্তুর নিগড়ে আবদ্ধ। সুতরাং বিবেক-প্রসূত এসব ধর্ম ভারসাম্যপূর্ণ জীবন বিধান এবং মানবতার পরাকাষ্ঠা প্রদর্শনী কিভাবে সক্ষম হতে পারে!! এখানে তো আমি আপনাকে এসব ধর্মের বাতুলতার মাত্র একটি দিক দেখিয়েছি। অথচ এসব ধর্ম এমনভাবে কুসংস্কারে পরিকীর্ণ, যেগুলো তুলে ধরতে গেলে কলেবর বিরাট আকার ধারণ করবে। যার জন্য মূলত, আলাদা পুস্তকের প্রয়োজন রয়েছে। তাই এখানে এগুলোর দু-একটি ভ্রান্তির প্রতি হিন্ট করলাম মাত্র। যাতে সেগুলোর অকার্যকারিতা এবং অসত্যতার প্রতি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারি।
মোটকথা দাদা, প্রচলিত শতাধিক ধর্মের মধ্যে ইসলামই সঠিক। তার কারণ হচ্ছে, এটিই মানবতার ধর্ম। ভারসাম্যপূর্ণ, স্রষ্টাপ্রদত্ত মানব প্রকৃতিতে নিহিত চিরন্তন-শাশ্বত বিধান। যাতে রয়েছে সার্বজনীন শুদ্ধির ব্যাপকতা, প্রকৃতির সার্থকতা, এক স্রষ্টা স্বীকারের মানসিকতা। সর্বোপরি, চিরন্তন সত্যতা।
আলোচনার এ পর্যায়ে এসে আপনি কিন্তু আরজ আলী সাহেবের আরেকটি আপত্তির উত্তর পেয়ে গেলেন। যেটি তিনি -আমরা যে আপত্তি নিয়ে আলোচনা করছি- এর ঠিক পরই করেছেন। মনে পড়ছে তো আপনার?
: কোনটির কথা বলছেন, ভাই?
: ওই যে আরজ আলী সাহেব বললেন না, “সাধারণত আমরা যাহাকে ধর্ম বলি, তাহা হইল মানুষের কল্পিত ধর্ম। যুগে-যুগে মহাজ্ঞানীগণ এই বিশ্বসংসারের স্রষ্টা ঈশ্বরের প্রতি মানুষের কর্তব্য কী -তাহা নির্ধারণ করিবার প্রয়াস পাইয়াছেন। স্রষ্টার প্রতি মানুষের কি কোন কর্তব্য নাই? নিশ্চয় আছে। এরূপ চিন্তা করিয়া তাহারা ঈশ্বরের প্রতি মানুষের কর্তব্য কী, তাহা নির্ধারণ করিয়া দিলেন। এইরূপে হইল কল্পিত ধর্মের আবির্ভাব।”
এইযে আপত্তিটি তিনি করেছেন, সেটির উত্তরও -যা আলোচনা করা হয়েছে তাতে এসে গেছে। আপনি লক্ষ করে দেখুন না, আমি কি সেটা প্রমাণ করে আসিনি যে, উনি যেভাবে ধর্মের উৎপত্তির কথা বলেছেন ইসলাম সেভাবে উৎপত্তি লাভ করেনি!! বরং মানুষকে সত্যিকারের মানবতাবাদী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে, তার ভারসাম্যহীন বডি ও বিবেককে কন্ট্রোল করার প্রয়োজনে, স্রষ্টার পক্ষ থেকে মানব-প্রকৃতির প্রতি রহমত স্বরূপ এসেছে -ইসলাম। যে ব্যক্তি ধর্মের সমালোচনা করতে গিয়ে মানবতার ধর্ম ইসলাম থেকেও বিমুখ হওয়ার প্ররোচনা দেয়, সে কোন ধরনের মানুষ? আরজ আলী সাহেব নিজেকে কুসংস্কারের সংস্কারক দাবি করেছিলেন। এখন আপনি চিন্তা করুন, আসলে তিনি সংস্কারবাদী ছিলেন নাকি উল্টো সমাজকে সংস্কারের পথ থেকে বিচ্যুত করতে চেয়েছেন!! সংস্কারপূর্ণ সুসংস্কৃতির আধার মানবতার ধর্ম ইসলামকে যিনি গভীরভাবে অধ্যয়ন না করে, গ্রামের অশিক্ষিত কিংবা অর্ধশিক্ষিত সরল মুমিনদের কথাবার্তা ও আচার বিশ্বাসের ভিত্তিতে কুসংস্কারের ধর্ম বলে আখ্যায়িত করার প্রচেষ্টা চালান -তিনি আর যাই হোন, জ্ঞান-পথের পথিক হতে পারেন না। একজন সত্যিকারের জ্ঞানপিপাসু এবং দার্শনিক টাইপের ব্যক্তি যেকোনো ক্ষেত্রে গভীর অধ্যয়ন ও সরাসরি ওই বিষয়ে জ্ঞাত হয়ে, তারপর একটা সিদ্ধান্তে আসে। হুট করে কিছু লোকের চলাফেরা বা আচার-ব্যবহারের ভিত্তিতে কোন মতবাদ-মতাদর্শের এবং ধর্মের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয় না। এটা কোনো সাধারণ জ্ঞানেরই পরিচয় নয়; দার্শনিক হওয়া তো দূরের কথা। কথায় আছে না, "যেমন লোচন তেমনি অবলোকন"!!

Comments